বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

শক্রতা করে ডিসের তার কেটে নিলেন ইউপি সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২

শত্রুতা করে ডিস ব্যবসায়ীর চার কিলোমিটার এলাকার অপটিক্যাল ফাইবার তার কেটে নিয়ে গেলেন ইউপি সদস্য। এতে ওই এলাকার দেড় শতাধিক গ্রাহক তিনদিন থেকে টেলিভিশনের সংবাদ ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ডিস ব্যবসায়ী শুক্রবার সকালে ফুলছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকার রনজুওয়ার রহমান (৪৩) এক যুগেরও বেশি সময় ধরে উদাখালী, সিংড়িয়া, পূর্ব উদাখালী, দক্ষিণ উদাখালীসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকারজুড়ে ডিস ব্যবসা করছেন। এসব এলাকায় তার আড়াই শতাধিক গ্রাহক রয়েছে।

তার ব্যবসায় ঈর্শান্বিত হয়ে একই এলাকায় তিন বছর আগে ডিস ব্যবসা শুরু করেন বিশু মিয়া (৩০) ও উদাখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী (৩২)। তারা ব্যবসায় ভালো করতে না পেরে প্রায়ই রনজুওয়ার রহমানকে ডিস ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে। এরই এক পর্যায়ে গত বুধবার দুপুরে উদাখালী মাদ্রাসা বাজারের উত্তর দিকে ১ কিলোমিটার, পূর্ব দিকে কিলোমিটার ও সিংড়িয়া লাইনে ২ কিলোমিটার ডিস সংযোগের অপটিক্যাল ফাইবার তার কেটে নিয়ে যায় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগী বিশু মিয়া। ওই দিন সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডিস ব্যবসায়ী রনজুওয়ার রহমান স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে তার কাটার কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ এই এলাকায় ডিস ব্যবসা করতে দিবেন না বলে হুমকি দেন ওই ইউপি সদস্য।

ডিস লাইনের গ্রাহক রফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার দুপুর থেকে আমরা টেলিভিশন দেখতে পারছি না। ছেলেমেয়েরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আমরা টাকা দিয়ে ডিস লাইন নিয়েছি। তাদের বিরোধের কারণে আমরা কেন বঞ্চিত হবো। একই ধরনের অভিযোগ করেন ওই সব এলাকার বেশ কিছু গ্রাহক।

ক্ষতিগ্রস্ত ডিস ব্যবসায়ী রনজুওয়ার রহমান বলেন, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী নির্বাচিত হয়েই আমার ব্যবসার ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি আমার ডিস লাইন কেটে তারা ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছেন। তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। গ্রাহকরা ডিস সংযোগ চালু করার জন্য বলছে। সংযোগ লাগাতে নতুন তারের প্রয়োজন। সেই টাকা আমার কাছেও নাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী ডিস লাইনের তার কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, কিছু দিন আগে ওই ডিস ব্যবসায়ী আমার ডিস লাইনের তার কেটে ছিল। এ কারণে আমিও কেটেছি। তিনি বলেন, আমি বারবার তাকে সমঝোতা করে একসাথে ব্যবসা করার প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু তিনি রাজি হননি। একসাথে ব্যবসা করলে রেষারেষি থাকতো না।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওছার আলী বলেন, ডিস লাইনের তার কাটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

All Rights Reserved © 2022 Gaibandha Report

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন