বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া আর নেই

নিজম্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২

গাইবান্ধা -৫ সাঘাটা-ফুলছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলে রাব্বি মিয়া আর নেই।তিনি সিনাই মাউন্ট নামে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

আমেরিকার স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ৪টায় নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সচিব তৌফিকুল ইসলাম।

জানা যায়,ডেপুটি স্পিকার দীর্ঘ গত নয় মাস দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

মৃত্যুর সময় হাসপাতালে তার সঙ্গে বড় মেয়ে রিটা ও তার একান্ত সচিব তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রয়াত ফজলে রাব্বির বাংলা উইকপিডিয়ার জিবনী থেকে জানা যায়,ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়জার রহমান এবং মাতার নাম হামিদুন নেছা।শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৬১ সালে গাইবান্ধা কলেজে ভর্তি হন। এরপর তিনি বিএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্ম জীবনে ফজলে রাব্বী মিয়া আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আইনজীবী থাকার সময় তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।১৯৬৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সনদ লাভ করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্য হন।

রাজনৈতিক জীবনে ১৯৫৮ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন ফজলে রাব্বী মিয়া। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণীতে পড়তেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান পাকিস্তানে মার্শাল ল’ চালু করেছিলেন। সে সময় ফজলে রাব্বীর চাচা উক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। চাচার মাধ্যমে তিনি মার্শাল ল’ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পরেন। এভাবেই তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।এছাড়া ১৯৬২-৬৩ সালে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করেছিলেন।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ফজলে রাব্বী মিয়া মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তুলতে তিনি কাজ করেন।

জানা গেছে, ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৮৮ সালের চতুর্থ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদিয়ে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন।

২০০৮ সালের নবম, ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯০ সালে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।দশম সংসদ থেকে তিনি আমৃত্যু ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন

তিনি জীবদ্দশায় তার কর্মের মধ্য দিয়ে অসংখ্য কৃত কর্ম রেখে গেছেন।তার কৃত কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি সাঘাটা ফুলছড়ি তথা দেশবাসীর মধ্যে বেঁচে থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবারের।

প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার তিন মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

All Rights Reserved © 2022 Gaibandha Report

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন