শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় ট্রাকের ধাক্কায় মেডিকেল ফার্মাসিস্ট নিহত উপ-নির্বাচন গাইবান্ধা-৫ ফুলছড়িতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রিপনের নির্বাচনী সভা উদাখালীর ৬টি স্থানে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে  মাহমুদ হাসান রিপনের সহধর্মিণীর পথসভা সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার থেমে গেছে তাসফিকার দূরন্তপনা, কাঁদছেন বাবা-মা করোনাকালীন খাদ্য সহায়তায় ভূমিকা রাখায় সম্মাননা পেল ফুলছড়ির উদ্যোক্তা মনোয়ার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক পেলেন শিক্ষক রেজাউল আলম  ফুলছড়িতে শিল্পকলা একাডেমির  নতুন ভবনের উদ্বোধন গাইবান্ধা জেলা আ’লীগের সভাপতি সিদ্দিক, সম্পাদক মোজাম্মেল আওয়ামীলীগ দেশের অন্যতম সংগঠন : রমেশ চন্দ্র সেন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পিতাকে হত্যা করে পুত্র

নিজম্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সেকেন্দার আলী বাদশাকে নিজ পুত্রসহ ৪জন মিলে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর ৩ সেপ্টেম্বর সাদুল্যাপুরের বৈষ্ণবদাশ এলাকা হতে আসামী জামাত আলী (৬৩) কে গ্রেফতার করেন পিবিআই। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

মঙলবার ( ৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের গাইবান্ধার পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ।
আদালতে জামাত আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা এ আর এম আলিফ বলেন, জামাত আলী, মামলার বাদী সেকেন্দার আলী বাদশার পুত্র জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল মোন্নাফ ও আব্দুল আজিজসহ মোট ০৪ জন মিলে ২০১৮ সালের ৩ মে সকালে সেকেন্দার আলী বাদশাকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করে।

সেইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহিদুলের পিতা সেকেন্দার আলী বাদশা তার বাড়ীর পার্শ্বে পুকুর পাড়ে একা বসেছিল। সেই সময় পূর্বপরিকল্পনাকারী ছেলে জাহিদুলসহ ০৪ (চার) জন সেখানে যায়। আসামী মোন্নাফ ভিকটিমকে মোটা গেঞ্জি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে মুখ টিপে ধরে এবং আসামী আজিজ ভিকটিম সেকেন্দার আলী বাদশাকে জড়িয়ে ধরে জামাত আলী ও ছেলে জাহিদুলের সহযোগিতায় পাজাকোলে তুলে পুকুর পাড় থেকে প্রায় ৫শ গজ দুরে ইউনুছ আলীর বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে ৫ থেকে ৬ মিনিট নাক-মুখ চেপে ধরায় বাদশার হাত পা নড়াচড়া বন্ধ করে। মৃত্যু হয়েছে ভেবে আসামীরা বাঁশ ঝাড়ের ভিতর একটি নালায় সেকেন্দার আলী বাদশাকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল হতে চলে যায়।

পরের দিন ৪ মে বিকালে জামাত আলী, সেকেন্দার আলী বাদশার অবস্থা দেখার জন্য ঘটনাস্থল বাঁশঝাড়ে গিয়ে বাদশাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় সেখানে লিমন মিয়া নামের একটি ছেলে জামাত আলী সেকেন্দার আলী বাদশাকে টানা হেচড়া করতে দেখে ফেলায় জামাত আলী ঘটনাটি অন্যখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। পরে জামাত আলীসহ এলাকার লোকজন জাহিদুলের পিতা সেকেন্দার আলী বাদশাকে বাড়ীতে নিয়ে গলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

পরে ২০১৮ সালের ২০ জুন পিতার হত্যার অভিযোগে এনে আইয়ূব আলী (৩২), রানু মিয়া (৩০), ইউনুস আলী (৩৫), মাহাবুর রহমান (৫৫), রফিকুল ইসলাম (৩০) সহ ৫জনের নাম উল্লেখ করে নিহত সেকেন্দার আলী বাদশার পুত্র জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করেন ,পিতা সেকেন্দার আলী বাদশার সাথে জমি-জমা সংক্রান্তে বিভিন্ন ধরনের মামলা মোকদ্দমা চলাকালীন শত্রুতার জেরে খুন জখমের হুমকি প্রদান করে আসছিল তারা।

পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ বলেন, পুলিশ ও সিআইডির তত্বাবধানে মামলার সুরাহা না হওয়ায় ২০২২ সালের ৯ জুন দ্বায়িত্ব পান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাইবান্ধা। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে গত ৩ সেপ্টেম্বর সাদুল্যাপুরের বৈষ্ণবদাশ এলাকা হতে আসামী জামাত আলীকে গ্রেফতার করেন পিবিআই। আসামী জামাত আলীকে ৪ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি সেকেন্দার আলী বাদশাকে হত্যার ঘটনাটি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

All Rights Reserved © 2022 Gaibandha Report

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন