বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

ফুলছড়িতে ভরা মৌসুমে সহজে সার পাচ্ছে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার-মো.হাবিবুর রহমান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আমন চাষে ভরা মৌসুমে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় ঘুরে ঘুরে দেখা যায় যে সারের সংকটের কথা শুনা গেলেও তা বাস্তে তা প্রমান পাওয়া যায়নি।

শনিবার ১০ই সেপ্টেম্বার উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার মেসার্স নজরুল ট্রেডার্স এর গোডাউনে গিয়ে দেখা যায় যে কৃষকরা তাদের প্রয়োজন মতো ইউরিয়া সার ক্রয় করছেন। তা অতিরিক্ত দামে নয় সরকার নিদ্ধারিত এক হাজার একশত টাকায় কিনছেন তারা ।

তবে ডিলারদের দাবি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) গোডাউন থেকে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়েই কৃষকদের চাহিদা মেটাতে পাড়ছি । তবে জালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খরচ গাড়ি ভাড়া আগের তুলনায় অনেক বেশি। নিজের পকেটের টাকা ব্যায় করে পরিবহন করতে হয় ডিলারদের।

জুলাইয়ের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন ধানের ভরা মৌসুম। এ ধানের চারা রোপণের সময় জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত। চারা রোপণের পর ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হয়। আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সার হচ্ছে এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ও টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট)। এ বছর চারা রোপণ করেও চাহিদামতো এমওপি ও টিএসপি সার জমিতে চাহিদা মতো দিতে পারছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন যা সার পাচ্ছি কিনছি সরকার নির্ধারিত দামে।

উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান ইসলাম যে বাহিরে হৈ চৈ যে সার নাই তা শুনে আমি ‘ডিলারের কাছে গেলে এগারো শত টাকা নিয়ে আমাকে এক বস্তা ইউরিয়া সার দিয়ে দেয়। আমন চারা রোপণ করলেও জমিতে পরিমাণ মতো সার দিতে পেরে আমি চিন্তা মুক্তা, তবে মানুষের মুখে শুধু হুজুক যে সারের অভাব। আমি আশাবাদি এই আবাদ অনেক ভালো হবে।

ফুলছড়ি উপজেলার গুনভরি গ্রামের কৃষক ওয়াজেদ আলী বলেন ‘যে পরিমাণ জমিতে আমন চারা লাগাইছি তাতে দরকার তিন বস্তা সার। কিন্তু পাইছি তিন বস্তা। তবে আগে সারের সংকট ছিলো কি না তা আমি জানিনা তবে বর্তমানে আমি আমার চাহিদা মতো সার পেয়েছি।

কথা হয় ফুলছড়ি উপজেলার মশামারি বাজারের (সাব-ডিলার) সারের খুচরা বিক্রেতা আবুল খায়েরের সঙ্গে । তিনি বলেন, ‘দুই এক বস্তা সার পাই এবং তাই আমরা সরকার নিদ্ধারিত দামে বিক্রি করি। এখন আমাদেরকে বেশি সার দিচ্ছে না ডিলাররা তারা সরাসরি কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছেন ।

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ও ভাউচার ছাড়া সার বিক্রির এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলার সার ডিলার মেসার্স নজরুল ট্রেডার্স’র স্বত্বাধিকারী মোঃ মেহেদী হাসান মিলু বলেন, কৃষকদের মাঝে সার বিতরণের সময় ভাউচার দেয়া হয় এবং প্রতিবেদন তৈরী করে তা কৃষি বিভাগকে জমা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা বিসিআইসি বাফার গোডাউনের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারের কোনো সংকট নেই। কৃষি বিভাগ থেকে যা চাহিদা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী ডিলারদের সার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যা মজুত আছে তাতে আগামী দুই মাস কোনো সমস্যা হবে না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বিসিআইসিকে চাহিদা দেওয়া হয়। চাহিদামতোই কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করা হয়েছে। সারের জন্য কৃষিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।’

বিসিআইসির তথ্যমতে, গত মাসে সাত হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দিয়েছে বিসিআইসি। এর সবই ডিলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় সার বরাদ্দ হয়েছে চার হাজার ৪৬৫ মেট্রিক টন। তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করবে বিসিআইসি।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিন্টু মিয়া বলেন,আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি এবং সহযেই কৃষক সরকার নিদ্ধারিত মূল্য সার পায় সেই বিষয় গুলো আমরা নজর দারি করছি। পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। তবে সার নিয়ে যদি কেউ সমস্যা তৈরি করতে চান তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

All Rights Reserved © 2022 Gaibandha Report

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন